ডাঃ এস জামান পলাশ

জামান হোমিও হল

মুক্তিযোদ্ধা মার্কেট, নীচ তলা শপথ চত্বর, কালীবাড়ী মোড, চাঁদপুর।

ই-মেইলঃ dr.zaman.polash@gmail.com

মোবাইল

01711-943435,
01670- 908547,
01670- 908547

শিরোনাম
চিকিৎসা যেখানে শেষ সেখানেই আমার শুরু ” ক্যান্সারসহ যে কোনো জটিল কঠিন রোগের চিকিৎসা অপারেশান ছাড়া করা হয়।
মুখের ঘা'র কারণ ও প্রতিকার
মুখের একটি বিশেষ রোগ হচ্ছে মুখের ঘা। মুখের ভেতরে সাধারণত যেসব রোগগুলো দেখি সেগুলো হচ্ছে ডেন্টাল ক্যারিজ, মাড়ির রোগ ও পেরিওডেন্টাল ডিজিজ, মুখের ক্যান্সার, অসমান দাঁত, ডেন্টাল সিস্ট ইত্যাদি। মুখের এই ঘা নানা কারণে হতে পারে ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, রিউমেটিক ফিভার, রক্তস্বল্পতা, ক্যান্সার, এইডস ইত্যাদি। যাদের ডায়াবেটিস বা হৃদরোগ আছে এবং দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম এবং দীর্ঘদিন ওষুধ গ্রহন করছেন তাদের মুুখেও এক ধরনের জীবাণু বিস্তার লাভ করতে পারে, যেমন মুখে ক্যানডিডা জীবাণুর কারণে ক্যানডিডিয়াসিস হতে পারে। আরও যেসব ঘা হতে পারে সেগুলোর মধ্যে লিউকোমিয়া, লাইকেন প্লানাস ইত্যাদি উল্ল্যেখযোগ্য। লক্ষ রাখতে হবে, মাড়িতে প্লাক জমা রয়েছে কিনা, যদি থাকে তবে তা অবশ্যই স্কেলিং করিয়ে পরিষ্কার করতে হবে। মুখে আরও একটি ঘা সব বয়সেই হতে পারে, এর নাম এপথাস আলসার। বিশেষ কোনো ভিটামিন-বি স্বল্পতা, কোনো দুশ্চিন্তা, অনিদ্রা, মুখের অস্বাস্থ্যকর অবস্থা, মানসিক অস্থিরতা ইত্যাদি কারণে এপথাস আলসার বেশি হয়। অনেক সময় এই ঘা আরও প্রকট হয়ে দেখা দেয়। এই রোগের চিকিৎসা হলো দুঃশ্চিন্তা দূর করা, ঘুম যাতে স্বাভাবিক হয় তার জন্য ব্যবস্থা নেওয়া এবং ওরাবেস জাতীয় মলম স্টেরয়েড স্থানীয়ভাবে ওই স্থানে লাগিয়ে ঘাটিকে তাড়াতাড়ি শুকাতে সাহায্য করা। স¤প্রতি এক গবেষণায় দেখা যায় যে, যাদের ধূমপান এবং জর্দা দিয়ে পান ইত্যাদি খাওয়ার অভ্যাস রয়েছে তাদের মধ্যে মুখের ঘা খুব বেশি হয় এবং সে সঙ্গে মুখে ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনাও বেশি। বিশেষত যারা পানের সঙ্গে জর্দা খান এবং অনেকবার পান খান তাদের মুখের ঘা বেশি হয় এবং লক্ষ করা গেছে, অনেকেই তামাক পাতাকে হাতের মধ্যে নিয়ে চুনের সঙ্গে মিশিয়ে গালের মধ্যবর্তী স্থানে রাখেন। তাতে দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে ওই স্থানে ঘা হতে পারে। পরবর্তীতে এই ঘা ক্যান্সারেও রূপ নিতে পারে। যারা নিয়মিত ধূমপান করেন এবং তামাক পাতা জর্দা দিয়ে পান অথবা তামাক পাতা গালের মধ্যে রেখে ব্যবহার করেন তাদের মধ্যে শতকরা ১০০ জনের মুখের ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে যারা জর্দা খান বা তামাক পাতা খান তাদের রিস্ক ফ্যাক্টর বা ঝুঁকি হতে পারে ৫০ ভাগ, যারা ধূমপান করেন এবং সেই সঙ্গে তামাক পাতাও পানের সঙ্গে ব্যবহার করেন তাদের ঝুঁকি শতকরা ১০০ ভাগ। সুতরাং যাদের মুখের ঘা রয়েছে তাদের এসব অভ্যাস অবশ্যই ছাড়তে হবে। পরীক্ষা করে দেখা গেছে, যারা এসব অভ্যাস ছাড়তে পেরেছেন তাদের মুখের ঘা থেকে ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা শতকরা ১০০ ভাগ নিশ্চিতভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। চিকিৎসার পরও মুখের ঘা যদি দু'সপ্তাহ থেকে তিন সপ্তাহ স্থায়ী হয়, তবে অবশ্যই বায়োপসী অথবা মাংসের টিস্যু পরীক্ষা করে দেখতে হবে। কারণ মুখে অনেক ঘা বা সাদা ক্ষতগুলোকে বিজ্ঞানীরা বলে থাকেন প্রি-ক্যান্সার লিশন বা ক্যান্সারের পূর্বাবস্থার ক্ষত। সুতরাং মুখের ঘা প্রতিরোধে দাঁত ও মুখের যতœ নেবেন এবং ঘা দেখা দেওয়া মাত্রই চিকিৎসার ব্যবস্থা নেবেন। মুখের ঘা ক্যান্সার প্রতিরোধে আজই ধূমপান ও সেই সঙ্গে তামাক পাতা বা জর্দার ব্যবহার বন্ধ করুন এবং ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ এবং হৃদরোগের মতো রোগগুলোকে নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ব্যবস্থা মেনে চলুন। কারণ প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই শ্রেয়, সস্তা ও নিরাপদ। তামাকজাতদ্রব্য ও ধূমপান আমাদের দেহ এবং পরিবেশকে অনেক ক্ষতি করতে পারে; কারণথি একটি সিগারেটের ধোঁয়ায় পনেরো বিলিয়ন পদার্থের অনুসমূহ (ক্ষুদ্রকণা) থাকে যা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। ধূমপান ও তামাক গ্রহণের ফলে মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস পায়। ধূমপানের কারণে গর্ভবতী মহিলাদের গর্ভের সন্তান বিকলাঙ্গ এবং অন্ধও হতে পারে।ি ধূমপান মস্তিষ্কের রক্তের প্রবাহ কমিয়ে দিয়ে স্ট্রোকের কারণ ঘটায়। ধূমপায়ী পিতা-মাতার সঙ্গে একই ঘরে থাকলে শিশুদের বড় হয়ে হৃদরোগে এবং ফুসফুসের রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। দু'টি ক্যান্সার প্রতিরোধ সম্ভব।
হোমিওপ্যাথিঃ মুখের ঘার চিকিৎসা হোমিওপ্যাথিতে নির্মূল করা সম্ভব এ চিকিৎসা হোমিওতে খুব তাড়াতাড়ি ভালো হয়।