ডাঃ এস জামান পলাশ

জামান হোমিও হল

মুক্তিযোদ্ধা মার্কেট, নীচ তলা শপথ চত্বর, কালীবাড়ী মোড, চাঁদপুর।

ই-মেইলঃ dr.zaman.polash@gmail.com

মোবাইল

01711-943435,
01670- 908547,
01670- 908547

শিরোনাম
চিকিৎসা যেখানে শেষ সেখানেই আমার শুরু ” ক্যান্সারসহ যে কোনো জটিল কঠিন রোগের চিকিৎসা অপারেশান ছাড়া করা হয়।
অ্যান্ড্রোপজ : পুরুষত্বের ইতি
পুরুষত্বের জন্য দায়ী হরমোনের মাত্রা সহসা কমে যায় না। ধীরে ধীরে এর মাত্রা কমতে থাকে এবং এই পরিবর্তন কয়েক বছর ধরে চলে। অনেক অসুখের কারণে অল্প বয়সেও ঘটতে পারে এই পরিবর্তন। এককথায় একে 'পুরুষের মেনোপজ' বলা যায়।
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের হরমোনের মাত্রা পরিবর্তিত হতে থাকে। মেয়েদের নিয়মিত রজঃস্রাবের জন্য দায়ী যেসব হরমোন, সাধারণত ৪৫ থেকে ৫০ বছর বয়সে তা হঠাৎ কমে যায় এবং রজঃনিবৃত্তি ঘটে। ইংরেজিতে একে মেনোপজ বলা হয়। পুরুষের ক্ষেত্রে পুরুষত্বের জন্য দায়ী হরমোনের মাত্রা এমন সহসা কমে যায় না। ধীরে ধীরে এর মাত্রা কমতে থাকে এবং এই পরিবর্তন কয়েক বছর ধরে চলে। একপর্যায়ে পুরুষত্বের অনেক বৈশিষ্ট্য হারিয়ে যায়। এককথায় একে 'পুরষের মেনোপজ' বলা যায়। চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা পুরুষত্বের বৈশিষ্ট্যগুলোর লোপ পাওয়াকে 'অ্যান্ড্রোপজ' বলেন।
পুরুষত্বের জন্য দায়ী মূলত টেস্টোস্টেরন হরমোন। এটি কমে যাওয়ার কারণে অ্যান্ড্রোপজ হয়। মেয়েদের ক্ষেত্রে মেনোপজ হলে শারীরিক ও মানসিক নানা পরিবর্তন ঘটে। অনেক মহিলা রজঃনিবৃত্তির শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন তীব্রভাবে অনুভব করেন; এমনকি এ জন্য তাঁরা চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করতে বাধ্য হন।
পক্ষান্তরে পুরুষের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ধীরে ধীরে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমতে থাকে। এ জন্য অ্যান্ড্রোপজ কখন ঘটে যায়, তা অনেক পুরুষই উপলব্ধি করতে পারেন না। কিন্তু টেস্টোস্টেরন হরমোনের অভাবে পুরুষের যৌন চাহিদা, মানসিক শক্তি ইত্যাদি ক্রমেই পরিবর্তিত হতে থাকে। এসব পরিবর্তন সবার অগোচরে ঘটে বিধায় অনেক সময় তা সরাসরি দৃশ্যমান হয় না।
ব্যক্তিবিশেষে পুরুষের শরীরে টেস্টোস্টেরনের মাত্রার ব্যাপক ভিন্নতা দেখা যায়। কম বয়সী যুবকদের চেয়ে স্বাভাবিকভাবে বয়স্ক পুরুষের শরীরে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কম থাকে। বয়ঃপ্রাপ্ত হওয়ার পর ধীরে ধীরে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমতে শুরু করে। বয়স ৩০ হওয়ার পর মাত্রা প্রতিবছর ১ শতাংশ কমে; সাধারণত ৭০ বছর বয়সী পুরুষের শরীরে এর মাত্রা স্বাভাবিকের অর্ধেক হয়ে যায়। কারো কারো এ মাত্রা আরো কমে যেতে পারে। স্বভাবত একজন পুরুষের শরীরে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা বয়স বাড়ার জন্য কমেছে, নাকি অন্য কোনো রোগব্যাধির কারণে, তা মূল্যায়ন করার প্রয়োজন রয়েছে। উপযুক্ত চিকিৎসা না করালে অনেক কারণেই টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমে যায়; যেমন-নিদ্রাকালীন শ্বাস-আবদ্ধতা বা ¯ি¬প অ্যাপনিয়া।
পুরুষের শরীরে টেস্টোস্টেরন হরমোনের মাত্রা কমে গেলেও তেমন কোনো লক্ষণ-উপসর্গ প্রকাশ পায় না। আবার অনেকের নানা রকম লক্ষণ-উপসর্গ দেখা যায়। যেমন :
স্বাভাবিক যৌনতার পরিবর্তন : সাধারণত টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমে গেলে পুরুষের যৌন চাহিদা হ্রাস পায়; এমনকি নপুংসকতা দেখা দিতে পারে। অনেকের অণ্ডকোষ দুটি আকার-আকৃতিতে ছোট হয়ে যায় এবং যৌন দুর্বলতা দেখা দেয়।
ঘুমের পরিবর্তন : টেস্টোস্টেরন কমে যাওয়ার ফলে অনেক পুরুষের ঘুমের ধরন বদলে যায়। আবার অনেকে নিদ্রাহীনতায় ভুগতে পারেন।
শারীরিক পরিবর্তন : টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমার ফলে পুরুষের শরীরে নানা পরিবর্তন ঘটে থাকে। যেমন-শরীরে চর্বির পরিমাণ বেড়ে যায়, পেশির পরিমাণ কমে যায় এবং ভারী শারীরিক কসরত করার ক্ষমতা হ্রাস পায়। এ ছাড়া হাড়ের ঘনত্ব কমে যায়। অনেক পুরুষের স্তন বৃদ্ধি ঘটে এবং তা ব্যথাযুক্ত হতে পারে। অনেকের চুল পড়ে যায় এবং টাক দেখা যায়। এ ছাড়া শারীরিক শক্তি ও উদ্দীপনা ব্যাপকভাবে কমে যায়।
মানসিক পরিবর্তন : টেস্টোস্টেরনের পরিমাণ কমার সঙ্গে সঙ্গে পুরুষের কর্মস্পৃহা অনেক কমে যায়। কাজের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলার পাশাপাশি অনেকে আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলেন। যৌবনের যে উৎসাহ-উদ্দীপনা, মনের জোর, সব জয় করার এক উদগ্র বাসনা, টেস্টোস্টেরনের পরিমাণ কমার ফলে তা কোথায় যেন উবে যায়। কোনো কাজে এককভাবে মনঃসংযোগ করতে পারেন না, স্মৃতিশক্তি ক্ষীণ হয়ে আসে, এমনকি অনেকে বিভিন্ন মাত্রার বিষন্নতা ভুগতে পারেন। বয়স বাড়ার ফলে শারীরিক ও মানসিক এসব পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই ঘটতে পারে। তবে অনেক সময় শারীরিক অসুখ-বিসুখও হতে পারে; যেমনথথাইরয়েড গ্রন্থি সমস্যা, বিষন্নতা রোগ, অতিরিক্ত মদ্যপান ইত্যাদি। কিংবা ওষুধ সেবনের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হিসেবেও এ রকম হতে পারে।
পরিণত বয়সে টেস্টোস্টেরন কমে যাওয়ার ফলে পুরুষত্বের ইতি বা অ্যান্ড্রোপজ কোনো অসুখ নয়; জীবনের একটি পরিবর্তিত ধাপ বা পর্যায়। তবে এ পরিবর্তন সম্পর্কে কোনো সংশয় থাকলে কিংবা টেস্টোস্টেরন কমে যাওয়া নিয়ে কোনো সন্দেহ থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। কতকগুলো বিষয় লক্ষ রাখা দরকার :
* সমস্যাগুলো যদি বয়স বাড়ার কারণে না হয়ে অন্য কোনো অসুখ-বিসুখ কিংবা ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণে হয়, তাহলে সেটার সমাধান করা যেতে পারে।
* জীবনাচরণ সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে; যেমন-স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ, নিয়মিত ব্যায়াম ও শরীরচর্চা করা উচিত। সুস্থ জীবনাচরণ শারীরিক শক্তি ও মানসিক উদ্দীপনা বৃদ্ধির জন্য সহায়ক।
* বিষন্নতার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। আগেই বলা হয়েছে, টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমে গেলে পুরুষের কর্মস্পৃহা, মানসিক উৎসাহ-উদ্দীপনা অনেক কমে যায়। এ ছাড়া বিষন্নতার কারণে অনেকের মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়, নিঃসঙ্গ থাকতে পছন্দ করেন এবং সামাজিক কাজকর্ম থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেন।