ডাঃ এস জামান পলাশ

জামান হোমিও হল

মুক্তিযোদ্ধা মার্কেট, নীচ তলা শপথ চত্বর, কালীবাড়ী মোড, চাঁদপুর।

ই-মেইলঃ dr.zaman.polash@gmail.com

মোবাইল

01711-943435,
01670- 908547,
01670- 908547

শিরোনাম
চিকিৎসা যেখানে শেষ সেখানেই আমার শুরু ” ক্যান্সারসহ যে কোনো জটিল কঠিন রোগের চিকিৎসা অপারেশান ছাড়া করা হয়।
শুচিবায়ু একটি মানসিক ব্যাধি
বাংলায় শুচিবায়ুকে (হিককাপ অব মাইন্ড) মনের ঢেঁকুরও বলে। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, হসপিটালের বহির্বিভাগে যে পরিমাণ মানসিক রোগী আসে তার ১০ ভাগ এ ধরনের রোগী। এতে পুরুষ ও মহিলা সমভাবে আক্রান্ত হন। টিনএজ ছেলেদের তুলনামূলকভাবে এ রোগ বেশি হয়। এ রোগটি সাধারণত বেশি হয় ২০ বছর বয়সে। বিবাহিতদের চেয়ে বেশি ভোগে অবিবাহিতরা।
শুচিবায়ুর কারণ : জেনেটিক কারণ = ৩৫ ভাগ রোগীর আত্মীয়দের মধ্যে এ রোগ থাকতে পারে। ধারণা করা হয় নির্দিষ্ট জিন এ রোগের জন্য দায়ী।বায়োলজিক্যাল কারণের মধ্যে কিছু নিউরোট্রান্সমিটারকে এ রোগের জন্য দায়ী করা হয়। যেমন - সেরেটনিন ও নরএডরেনাজিক সিস্টেমের সমস্যা। ইমিউনোলজিক্যাল সিস্টেমের মধ্যে বিটা স্টেটেপটোকক্কাল ইনফেকশন।
হোমিওপ্যাথি চিকিৎসাঃ- শুচি বায়ুর জন্য হোমিও চিকিৎসা আছে।
বেইন-এর কারণের মধ্যে : ফ্রন্টাল লোবের কার্যকারিতা বেড়ে গেলে।
সাইকোসোসাল কারণের মধ্যে: ১৫-৩৫ ভাগ রোগীর ছোটবেলা থেকেই লক্ষণ (ট্রেন্ড) থাকতে পারে। যেমন বেশি বেশি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা, নিজের গ¬াস, পে¬ট অন্যকে ছুঁতে না দেওয়া, বেশি সময়ানুবর্তিতা থাকা, সবকিছু নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা ইত্যাদি। ফ্রয়েডের মতে : মানসিক ফ্যাকাল্টি গঠনের বিভিন্ন পর্যায় আছে, তার মধ্যে এ রোগীরা এনাল পর্যায়ে এসে আটকে যায়।
গবেষকদের মতে : মানসিক চাপ, গর্ভাবস্থা, বাচ্চা প্রসবের পর এ রোগের উপসর্গগুলো বেড়ে যায়। কিভাবে বুঝবেন আপনি অথবা কেউ শুচিবায়ুতে ভুগছেন :এ রোগের দুটি অংশ : প্রথমটি হলো\- বারবার চিন্তা আসা। রোগীরা প্রায়ই বলে, ডাক্তার খালি টেনশন বাড়ায়। কোনো কোনো রোগীর দিনের শেষে রাতের বেলায় শুরু হয় বিশেষ কোনো ঘটনা। অনেকবার মনে পড়া। আবার কেউ কেউ কোনো ঘটনা বলার জন্য স্বামীকে বারবার বিরক্ত করে যা একবার বললেই হয়।
* অপরটি হলো= চিন্তাকে কাজের অথবা আচরণের মাধ্যমে প্রকাশ করা, যাকে আমরা কম্পালশন বলি। শুচিবায়ুর কারণে রোগীর কি কি সমস্যা হয় : মেয়েদের মাসিকের সময় অস্বস্তি বেড়ে যায়। ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে যাদের শুচিবায়ু আছে তারা পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়ে। কোনো কাজ সম্পন্ন করতে অনেক সময় লাগে, পরীক্ষার সময় কোনো কোনো ছাত্রছাত্রী পেছনের পাতায় কী লিখেছে তা বারবার চেক করে। এ কারণে পরীক্ষায় পূর্ণ নম্বরের উত্তর লিখতে পারে না। বিষন্নতায় ভোগে প্রায় ৬৭ ভাগ রোগী।কাজকর্মে ধীরগতি দেখা যায়। ঘুমের সমস্যা হয়। বিবাহিত জীবনে সম্পর্কে অবনতি ঘটে। এ কারণে ডিভোর্স রেট বেড়ে যায়।
শুচিবায়ুর পরিণতি : সঠিক সময়ে চিকিৎসা করলে ২/৩ ভাগ রোগী স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে। যেসব রোগীর সমস্যা এক বছরের বেশি সময় ধরে থাকে তারা দীর্ঘস্থায়ী রোগী বলে গণ্য হয়। রোগীর নির্দিষ্ট কোনো কারণ পাওয়া গেলে, আগে আগে চিকিৎসা শুরু হলে, ব্যক্তিত্ব ভালো থাকলে, উপসর্গগুলো অল্পদিন ধরে শুরু হলে এবং বেশি বয়সে হলে চিকিৎসায় উন্নতি বেশি হয়।