ডা.এস. জামান পলাশ

জামান হোমিও হল

মুক্তিযোদ্ধা মার্কেট, নীচ তলা শপথ চত্বর, কালীবাড়ী মোড, চাঁদপুর।

ই-মেইলঃ dr.zaman.polash@gmail.com

মোবাইল

01711-943435,
01670- 908547,
01919 - 943435

শিরোনাম
চিকিৎসা যেখানে শেষ সেখানেই আমার শুরু ” ক্যান্সারসহ যে কোনো জটিল কঠিন রোগের চিকিৎসা অপারেশান ছাড়া করা হয়।
হোমিওপ্যাথি সর্ম্পকে মানুষের ভ্রান্ত ধারণা
হোমিওপ্যাথিক উদ্ভাবক স্যামুয়েল হ্যানিম্যান একজন এম.ডি ডিগ্রীধারী এলোপ্যাথিক চিকিৎসক। অষ্টাদশ শেষের দিকে এসে তিনি পেয়ে যান সদৃশ্য ও সুদক্ষতায় থিউরী যা আজ বিশ্বব্যাপী সমাদৃত হোমিওপ্যাথি।হোমিওপ্যাথি আন্তর্জাতিক স্বীকৃত চিকিৎসা বিজ্ঞান, সমস্ত পৃথিবীতে গবেষণা ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতি দেখে কিছু স্বার্থান্বেষী মহল বাস্তব সত্য হোমিওপ্যাথি থাকবে ইনশা আল্লাহ। হোমিওপ্যাথি সম্বন্ধে সমাজে কিছু লোক ভ্রান্ত ধারনা পোষন করে। কেহ বলে হোমিওপ্যাথি ঔষধ শিশুদেরই চিকিৎসা করে। কেহ বলে ধীরে ধীরে কাজ করে। কেহ কেহ বলেন হোমিওপ্যাথিকে কোন পরিবর্তন বা গবেষণা নাই। অন্যান্য চিকিৎসায় নিত্য নতুন আবিষ্কার হচ্ছে। পুরাতন ঔষুধ বাতিল করে আবার কেহ বলেন আগে এক ফোটা ঔষধে কাজ হত। এখন আসল ঔষধ পাওয়া যায়না। এ সমস্ত ভ্রান্ত ধারণা সম্পূর্ণ মনগড়া বা কাল্পনিক। সত্যিকার অর্থে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় এইসব ধারণা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
এদের ভ্রান্ত ধারনা নিরসন করে হোমিওপ্যাথি মূল মন্ত্রে পৌছে দিতে পারলেন হোমিওপ্যাথির পরিচিতি ও বিজয় সুনিশ্চিত হবে। হোমিওপ্যাথি কাকে বলে এর মূল ভিত্তি কি? এই আলোচনার মধ্যে নিহিত নিরসর আছে তাদের সকল জিজ্ঞাসার জবাব। হোমিওপ্যাথি কাকে বলে- এক কথায় উত্তর হলো, সুস্থ শরীরে কোন ঔষধ সেবন করলে যে সমস্ত লক্ষণ প্রকাশ পায় সে সমস্ত লক্ষণ যে রোগের মধ্যে থাকে, অনুরূপ রোগের উক্ত ঔষুধটি দ্বারা চিকিৎসা করার নামই হোমিওপ্যাথি। হ্যানিম্যান সৃষ্টিকর্তা বিশ্বাস করতেন, আত্মবিশ্বাস করতেন। আত্মার বাহল জীবনী শক্তি তথা VITAL FORCE CORPORAL NATURE কে বিশ্বাস করতেন। বস্তুর গুনাগুনকে তিনি বিশ্বাস করতেন। এ সকল বিশ্বাসের সমন্বয়ই হল হ্যানিম্যান হোমিও দর্শন। আত্মা যেমন অজড় অদৃশ্য জীবনী শক্তি ও তেমনি অজড় অদৃশ্য। আত্মা যতদিন দেহে বর্তমান থাকে ততদিন দেহে জীবনী শক্তি বিরাজ করে দেহ যন্ত্রকে সুন্দর ও সৃশৃংখল ভাবে নিয়ন্ত্রন করে। এটা একটি স্বয়ংক্রয় সত্ব। দেহাভ্যন্তারে জীবনী শক্তিকে আক্রমন করে এবং বিশৃংখলা করে তখন দেহ যন্ত্রে কিছু অস্বাভাবিক লক্ষণ সৃষ্টি হয়। এ অস্বাভাবিক লক্ষণ সমষ্টিকে হোমিওপ্যাথি মতে রোগ বলে। অতএব রোগ কোন অঙ্গ বিকাশের নহে। রোগ সামগ্রিক, এই জন্য হোমিওপ্যাথিক কোন অঙ্গ বিশেষের চিকিৎসা না করে সমগ্র মানুষেরই চিকিৎসা করে থাকে সেহেতু বলা হয় “Treal the Parent not the disease” রোগ নহে রোগীরই চিকিৎসা করে। হোমিওপ্যাথি মতে যেহেতু লক্ষণ সমষ্টিই রোগ সেহেতু রোগের নামে কোন ঔষধ প্রয়োগ করে না। এছাড়া একই নামে রোগ ভিন্ন ভিন্ন দেহে চরিত্রগত বৈশিষ্ট্যের জন্য ভিন্ন ভিন্ন লক্ষণ প্রকাশ পায়। সুতরাং রোগের নামের সকলের জন্য একই ঔষধ প্রয়োগ যুক্তিযুক্ত নহে। রোগকে যারা স্থূল ভেবে স্থূল ঔষুধ প্রয়োগ করেন তাদের স্থূল ঔষধ প্রয়োগ স্থুল দেহে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। সুক্ষ্ম রোগ শক্তিকে স্পর্শ করতে পারে না। স্থূল ঔষুধের চাপে পড়ে ক্ষতিগ্রস্থ দেহকে পূর্ব স্বাস্থ্যে ফিরিয়ে আনা প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠে। হ্যানিম্যানের রোগতত্ত্ব বহু গবেষনারই ফসল। এটা যে কত সত্য এবং স্বাভাবিক তা কর্মক্ষেত্রে নিত্য আমাদের হাতে প্রমাণিত হচ্ছে। হোমিওপ্যাথি ধীরে ধীরে কাজ করে একথা বলা সর্বক্ষেত্রে সঠিক নহে। আমাদের প্রতিটি ঔষুধ সুস্থ মানব দেহে পরীক্ষিত এবং মেটিরিয়া মেডিকায় সন্নিবেশিত। হ্যানিম্যানই সর্বপ্রথম বিশ্ববাসীকে জানিয়ে দিলেন মানব দেহে প্রয়োগ নিমিত্ত ঔষুধ সমূহ মানব দেহেই পরীক্ষা হওয়া বাঞ্চনীয়। অন্য প্যাথিরা ইতর প্রাণীর উপর ঔষধ পরীক্ষা করে থাকেন। বাকশক্তিহীন ইতর প্রাণীর কখনও অনুভূতি প্রকাশে সমর্থ নহে। এ পরীক্ষণ শুধ অনুমান ভিত্তিতে হয়ে থাকে। অতএব, হোমিও ঔষধের পরীক্ষণ নীতি যুক্তিযুক্ত এবং বিধিসম্মত। আমাদের প্রতিটি পরীক্ষিত ঔষুধের লক্ষণ রাজী গণিতের ন্যায় সত্য। দুইশত বৎসর পূর্বে যে রোগ যেভাবে কাজ করে এখন তার সেভাবে করে থাকে। হোমিওপ্যাথিতে গবেষণা হয় না, এমন ধারনা সঠিক নহে হ্যামিম্যান থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত প্রায় দুই হাজারের মত পরীক্ষিত ঔষুধ হোমিও ভান্ডারে মজুত আছে। বিশ্বের ৫০ কোটি অধিক মানুষ হোমিও প্যাথির উপর নির্ভরশীল এতে বৃষ্টিশ রাজ পরিবার প্রভুবৃন্দ, রাষ্ট্রীয় নেতৃবৃন্দ থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ পর্যন্ত অন্তর্ভ্ক্তূ এত বড় এক চিকিৎসক পদ্ধতির বিরুদ্ধে এ ধরনের যুদ্ধ ঘোষণা এক অসাধারণ দুঃসাহসের পরিচয় মাত্র। সর্বপরি কথা হচ্ছে হোমিও চিকিৎসা বিজ্ঞান মানেই একটি বিশাল জ্ঞান সমুদ্র। এতে হৃদয়ঙ্গম করে আয়ত্ব করতে দৃঢ় সংকল্প, সচেতনতা, তীব্র সংযোজন। সার্বক্ষণিক তৎপরতা, অধ্যবসায় ও ঐকান্তিক সাধনা থাকা অপরিহার্য্য আমাদের মনে রাখতে হবে। যে ‘‘কষ্ট করলে নষ্ট হয় না’’ এমন কি যা যত বেশী ও গুরুত্ব তা লাভ বা আয়ত্ত করাও ততবেশী ফলাফলও তত বেশি মধুর। হোমিওপ্যাথি লক্ষন ভিত্তিক চমৎকার আধুনিক চিকিৎসা ব্যাবস্থা। এ চিকিৎসায় সব রোগের রোগীর এক ঔষধ হয় না কারন রোগ এক হলেও রোগীদের লক্ষন ভিন্ন থাকে তাই ঔষধ ভিন্ন হয়। একজন রোগীর জরায়ু টিউমার হয়েছে,এ্যালপ্যাথি ডাক্তারা প্রথম ২/৩ মাস ঔষধ খাওয়াবে অতঃপর বলবে জরায়ু অপারেশান করতে হবে।টিউমার যদি চিকিৎসা করে ভালো না করা যায়,তাহলে কি ভাবে এ্যালপ্যাথি চিকিৎসা ব্যাবস্থাকে আধুনিক চিকিৎসা বলা হয়। কিন্তু হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায় ঔষধ দিয়েই অপারেশান ছাড়া টিউমার চিকিৎসা সম্ভব।তাহলে আধুনিক চিকিৎসা কি হোমিওপ্যাথি না এ্যালপ্যাথি আপনি বলতে বাধ্য হবেন হোমিওপ্যাথি। আমাদের সমাজের মানুষের ভ্রান্ত ধারনা হোমিও প্যাথি সর্ম্পকে যে হোমিওপ্যাথি ঔষধ আস্তে আস্তে কাজ করে? না- হোমিওপ্যাথি ঔষধ খাওয়ার পর থেকেই এর কাজ শুরু হয়,এবং রোগীতা বুজতে পারে,তবে রোগ নির্মূল হতে সময় লাগে কারন হোমিওপ্যাথি রোগ নির্মূল করে তাই একটু সময় লাগতে পারে কিন্তু এ্যালপ্যাথি রোগ চাপাদেয় যা কিছুদিন পর আবার দেখা দেয়। আবার অনেকের ধারনা জটিল ও কঠিন রোগ এর চিকিৎসা হোমিওপ্যাথিতে সম্ভব না। এটা সর্ম্পূন ভ্রান্ত ধারনা – কারন হোমিওপ্যাথি লক্ষন ভিত্তিক চিকিৎসা তাই কি রোগ তা মুখ্য না-রোগীর রোগের লক্ষন কি এটাই হলো মূল রোগ ক্যান্সার না আলসার তা দেখার বিষয় না। তাই হোমিওপ্যাথিতে সকল জটিল কঠিন পুরাতন রোগের চিকিৎসা সম্ভব আমি চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলতে পারবো ক্যান্সারসহ যে কোনো জটিল রোগের জন্য এক সাপ্তাহ রোগীকে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা করে দেখেন অবশ্যই কিছুনা কিছু রোগীর কষ্টের লক্ষন পরিবর্তন পাবেন এবং রোগী বলবে ভালো লাগতেছে। ইনশাআল্লাহ।