ডা.এস. জামান পলাশ

জামান হোমিও হল

মুক্তিযোদ্ধা মার্কেট, নীচ তলা শপথ চত্বর, কালীবাড়ী মোড, চাঁদপুর।

ই-মেইলঃ dr.zaman.polash@gmail.com

মোবাইল

01711-943435,
01670- 908547,
01919 - 943435

শিরোনাম
চিকিৎসা যেখানে শেষ সেখানেই আমার শুরু ” ক্যান্সারসহ যে কোনো জটিল কঠিন রোগের চিকিৎসা অপারেশান ছাড়া করা হয়।
হোমিওপ্যাথি নীতি

*রোগের নহে রোগীর চিকিৎসা*

হোমিওপ্যাথি রোগের নহে রোগীর চিকিৎসা করে। আশ্চার্যের কথা রোগ না থাকলে রোগী আসবে কোথা থেকে। রোগ ভালো না হলে আবার রোগী ভালো হবে কিভাবে?অবশ্য এ প্রশ্নটি একদিন আমার ও ছিল, সময়ের ব্যাবধানে এবং হোমিওপ্যাথির উপর পড়াশুনার ফলে সে প্রশ্নটি এখন আর নেই।“রোগের নয় রোগীর চিকিৎসা” কথটি বুঝতে হলে রোগ কি এবং রোগীকে একথাটি ভালো ভাবে বুঝতে হবে।
এববার আসা যাক রোগ হলো একটি অশুভ অদৃশ্য শক্তি। যে অদৃশ্য শক্তিকে খালি চোখেতো দূরের কথা শক্তিশালী মাইক্রোস্কোপ দিয়েও তা দেখা সম্ভব নয়। জীবনী শক্তি হলো একটি অদৃশ্য শক্তি। অদৃশ্য রোগ শক্তি যখন অদৃশ্য জীবনী শক্তির উপর প্রভাব বিস্তার করে তখন জীবনী শক্তির নিয়মিত কার্যপ্রনালীতে বিশৃংখলা ঘটে। অশুভ শক্তির প্রভাব হেতু সৃষ্ট বিশৃংখলা থেকে পরিত্রান এর পত্যাশায় সাহায্যের জন্য জীবনী শক্তি মানব দেহে নানা ধরনের লক্ষনরাজি প্রকাশ করে এবং এর দ্বারা সে বুঝতে পারে যে আমি রোগক্রান্ত হয়েছি। উদাহরণ স্বরুপ আমরা বলতে পারি যখন ম্যালেরিয়া, যক্ষা বা অন্য কোন রোগে কেহ (জীবনী শক্তি) আক্রান্ত হয় তখন তার রক্ত,মল মূত্র, কফ ইত্যাদি পরীক্ষা করলে যে জীবানুর একক নাম রোগ নয় । এটি রোগের জীবানু। তাহলে রোগ কি? রোগটি হল অশুভ অদৃশ্য শক্তি। যার প্রভাবে দেহে জীবানুসহ অন্যান্য লক্ষনরাজি প্রকাশিত হয়েছে উক্ত অশুভ অদৃশ্য শক্তির নাম রোগ। আর এই অশুভ অদৃশ্য শক্তি যার (জীবনী শক্তির) উপর প্রভাব বিস্তার করেছে তারই নাম হলো রোগী। সতরাং বুঝা গেল জীবনী শক্তি অশুভ অদৃশ্য শক্তির প্রভাব মুক্ত হলেই কেবল তাকে আরোগ্যলাভ বুঝায়। অর্থ্যাৎ জীবনী শক্তি অশুভ অদৃশ্য শক্তির (রোগ) প্রভাব মুক্ত হলেই কেবল হলেই কেবল লক্ষনরাজির অবসানঘেটে অন্যথায় নয়। তাই হোমিওপ্যাথি রোগের নয় রোগীর চিকিৎসা করে।
রোগী ব্যাক্তি স্বাতন্ত্রে ঔষধ প্রয়োগঃ-
জগতের প্রতিটি প্রানী বা বস্তু দেখতে একই রকমের মনে হলেও প্রকৃত অর্থে তারা পরস্পর ভিন্ন প্রকৃতির অর্থ্যাৎ জন্মগত অধিকার সংবেদন ও অনুভূতি ইত্যাদিতে প্রানীতে প্রানীতে, বস্তুতে বস্তুতে বিশেষ করে মানুষে মানুষে সসাম্য স্বীকৃত হলেও আকৃতি, প্রকৃতির রং-রুপ, গন্ধে, পরস্পরের মধ্যে পার্থক্য স্বীকার না করার উপায় নাই। মূল কথা হলো ব্যাক্তি বা বস্তু স্বাতন্ত্র্যে ও কারনে দুটি প্রানী বা বস্তু একই রকম হয় না। তাই রোগী পর্যবেক্ষনে দেখা যায় ব্যাক্তি স্বাতন্ত্রের কারনে একই রোগক্রান্ত বিভিন্ন রোগীকে ভিন্ণ ভিন্ন লক্ষন সমষ্টি দ্বারা ভিন্ন ভিন্ন চিত্র অংকিত হয়। তাই আরোগ্য বিজ্ঞানের অপরিহার্য নিয়ম অনুসারে একটি স্বতন্ত্র রোগীর স্বতন্ত্র চিত্র একটি ঔষধ পাওয়া যায়। উদাহরণ স্বরুপ কোনোগীর শয্যা পাশে বসে দেখা গেল তার তল পেট স্ফীত ,সে অস্থির ও এবং প্রায়ই রক্ত বমি করছে ও তার মলদ্বার হতে রক্তস্রাব হচ্ছে। আরও দেখা গেল তার তল পেট স্ফীত এবং ভীষণ জ্বালা, অতৃপ্ত পিপাসাম, শুশক, জিহ্ব্বা, বিদ্যুৎ বৎ নাড়ীর গতি। সিকেলি কর ও আর্সেনিক এসব লক্ষন রাজি এক ও অভিন্ন। কিন্তু পার্থক্য হলো রোগী যখন গাত্রাবরন ছুড়ে ফেলে এবং ঠান্ডা হতে চায়, জানালা গুলো খোলা রাখতে চায়, গরম সহ্য করতে পারে না এবং গরম অবস্থায় অবনতি ঘটে। তখন সিকেলিই হলো তার এক মাত্র ঔষধ। পক্ষান্তরে রোগী যদি গরম বস্ত্রে সর্বাঙ্গ আবৃত রাখতে চায় এবং গরম খাদ্য ও গরম পানি চায়, তাহলে তখন আর্সেনিক প্রয়োগ করতে হবে। সিকেলি প্রয়োগ করা যাবে না।
আংশিক নহে সামগ্রিকভাবে চিকিৎসাঃ-
আংশিকভাবে চিকিৎসাদ্ধারা রোগ নিরাময় করা আদৌ সম্ভব নয়। হয়তো সময়িক উপশম হতে পারে মাত্র। কারন হলো অদৃশ্য সূক্ষ জীবনী শক্তি যখন অশুভ অদৃশ্য রোগ শক্তি দ্বারা আক্রান্ত হয় তখন দেহরাজ্য বিশৃংখলার সৃষ্টি হয়। এই বিশৃংখলা বিশেষ ব্যাধির প্রকৃতি অনুসারে বিশেষ বিশেষ অঙ্গে বিকৃত লক্ষন আকারে প্রকাশ পায়। বিকৃত জীবনী শক্তির সাহায্যে প্রার্থনার মানসিক ও দৈহিক ভাষাগুলো পরিপূর্ন রুপে একজন চিকিৎসককে উপলব্দি করতে হবে এবং তদঅনুযায়ী সু-নির্দ্দিষ্ট ঔষধ প্রয়োগ করতেহ হবে।